বিনুর ঠাম্মার একটা সোনার গোপাল আছে। ঠাম্মা তাকে রোজ নাড়ু খেতে দেন। কখনও বিনু আগে নাড়ু পায় না। অবশ্য পুজো হওয়ার পরে প্রসাদ বিনুকেই আগে দেন। তবু বিনুর গোপালের ওপর বড্ড রাগ। সে যেন ঠাম্মার সব আদর কেড়ে নিচ্ছে।
আজ ঠাম্মা তালের বড়া তৈরি করেছেন। বিনু তক্কে তক্কে আছে—আজ গোপালকে সে কিছুতেই আগে তালের বড়া খেতে দেবে না।
ঠাম্মা স্নান করতে গেছেন। বাবা-মা অফিসে, বাড়িতে নেই।
বিনু পা টিপে টিপে ঠাম্মার রান্নাঘরের দিকে এগোল। রান্নাঘরের দরজায় শিকল তোলা। বেড়াল যেন রান্না করা খাবারে মুখ দিতে না পারে, তাই ঠাম্মা সবসময় দরজায় শিকল দিয়ে রাখেন।
কিন্তু আজ বিনুকে কিছুতেই আটকানো যাবে না। মায়ের ঘর থেকে টুল নিয়ে এসে দরজা খুলবেই বিনু।
পিছন ফিরল বিনু টুল আনতে। হঠাৎই একটা মিষ্টি গলার আওয়াজ, “বিনু!”
বিনু চমকে গেল। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে বিনুর মতোই একটা ছোট্ট ছেলে। মিষ্টি হেসে সে বলল, “বিনু, তালের বড়া খাবে?”
বিনু অবাক হয়ে দেখল, সেই ছেলেটির দুই হাতভর্তি তালের বড়া।
বিনু অবাক হয়ে বলল, “তালের বড়া খাব, কিন্তু তুমি কে?”
একগাল হেসে সে বলল, “আমি তো গোপাল। এই নাও, তালের বড়া খাও।”
দুই হাতভর্তি তালের বড়া এগিয়ে ধরল বিনুর সামনে।
বিনু হাত বাড়িয়ে তালের বড়া নিতে গিয়েও হাত টেনে নিল।
“না ভাই গোপাল, ভেবেছিলাম খাব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আগে ঠাম্মার গোপালই খেয়ে নিক। আমি পরে খাব।”
ছেলেটি হাসল। বিনুর মন শান্ত হয়ে গেল।
“এসো, আমার সঙ্গে ঠাকুরঘরে।”
বিনু সেই ছেলেটির সঙ্গে পায়ে পায়ে ঠাকুরঘরে এসে দেখল, ঠাম্মার গোপালের সামনে থালা ভর্তি তালের বড়া। আর ঠাম্মার গোপালের মুখেও তালের বড়ার টুকরো!
“এবার তো তোমার খেতে আপত্তি নেই, বিনু?”
বলেই গোপাল বিনুর মুখে একটা তালের বড়া ঢুকিয়ে দিল। নিজেও একটা মুখে দিল।
বিনুর ঘরের পড়ার টেবিলের ওপর এক থালা তালের বড়া রেখে দুজন দুপাশে বসে তৃপ্তির সঙ্গে খেতে লাগল।
ঠাম্মার স্নানঘরের দরজা খোলার শব্দ হলো।
বিনুর দু’চোখের পাতা ঘুমে জড়িয়ে এল। পড়ার টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়ল বিনু।
এদিকে ঠাম্মা স্নান করে রান্নাঘরের শিকল খুলে থালা ভরে তালের বড়া নিয়ে গোপালের সামনে ধরে অবাক!
গোপালের মুখে কী লেগে আছে? তালের বড়া?
“বিনু! বিনু!” বলে তাড়াতাড়ি বিনুর ঘরে এলেন ঠাম্মা।
বিনু ঘুমিয়ে কাদা। হাতে ধরা তালের বড়া।
বিনুর গায়ে হাত দিয়ে ঠাম্মা ডাকলেন, “দাদুভাই?”
বিনু ঘুমজড়ানো চোখে বলল, “আমি নিজে নিইনি, ঠাম্মা। গোপাল আমাকে তালের বড়া দিয়েছে। ও নিজেও খেয়েছে।”
ঠাম্মা বললেন, “গোপাল দিয়েছে? কই, সে?”
বিনু চোখ কচলে বলল, “এই তো এখানেই ছিল। আমার সঙ্গে তালের বড়া খাচ্ছিল। নাহলে তুমিই বলো না, আমি কি রান্নাঘরের শিকল খুলতে পারি?”
ঠাম্মার চোখে জল এসে গেল। বিনুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “বুঝেছি দাদুভাই। এবার থেকে তোমাকে আর গোপালকে একসঙ্গে খেতে দেব।”
