দারিদ্র্য, শোষণ বঞ্চনায় সাধারণ মানুষ যখন শ্রান্ত,

রাতের আকাশের ধূমকেতুর মতোই এসেছ তখন সুকান্ত।

কিশোর কবি হয়েও তোমার কন্ঠে বিপ্লবের জয়গান,

রোমান্টিকতা নয়, ঝলসানো রুটি তোমার লেখায় পেয়েছে স্থান।

বৈষম্যতা, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তুমি গড়েছ বৈপ্লবিক চেতনা-

কবিতাকে করেছ মুক্তির হাতিয়ার, প্রেমের মালা না।

সদ্যোজাত শিশুর কাছে করেছ দৃঢ় অঙ্গীকার—

শোষণ, ক্ষুধা, বঞ্চনাহীন বিশ্ব তাকে দেবে উপহার।

শ্রমজীবী মানুষের ঘামে ভেজা তোমার কবিতা চিরকালীন,

স্থান, কালের বেড়া যেথায় হয়েছে বিলীন।

মোরগ, সিঁড়ি, সিগারেট বা তুচ্ছ দেশলাই কাঠি,

শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে হয়েছে তোমার প্রতিবাদের লাঠি।

সাম্যবাদী চেতনায় দীক্ষিত তুমি, হে ‘অগ্নিকিশোর’

আনতে চেয়েছ এক নতুন যুগের ভোর।

যুব সম্প্রদায়কে তুমি দিয়েছ লড়াই-এর শিক্ষা,

অধিকার কেড়ে নিতে হবে, নয় এ কোন ভিক্ষা।

আজকের এই সমাজে যেথায় প্রতিবাদ হয় বিক্রি,

আর একবার তুমি ফিরে এস নিয়ে তোমার সৃষ্টি।।