আলিপুর জু-তে গিয়ে দেখে কসরত,
বললাম তাগড়াই শিম্পাঞ্জিকে—
অনেক হয়েছে, চলো মন দিয়ে তুমি
এবার ক্যারাটে-জুডো নাও বাপু শিখে।
বলতেই দুম করে দিয়ে ডিগবাজি,
হাহা করে, হিহি করে সোল্লাসে রাজি।
হনুর চোয়াল বড়ো, দড়ো লাফঝাঁপে,
লম্ফে-ঝম্পে তার গাছপালা কাঁপে।
বোধহয় পড়েনি ব্যাটা জিম করবেট,
তাই তো বেহায়া আর নিরেট গবেট।
পড়েনি সে আনপড় কোনো জিকে-টিকে,
হয়নি মানুষ সে লেখাপড়া শিখে।
বাঁদরের বাঁদরামি বোঝা মুশকিল,
হয় দেবে খামচিয়ে, নয় দেবে কিল।
বাঘ আছে তার মতো দারুণ মেজাজি,
কিন্তু জানো না ব্যাটা, কত বড়ো পাজি।
হায়না, খটাশ, ভাম আছে গায়ে গায়,
ব্যাচারি বেজারভাবে পড়ে আছে তায়।
সিংহের রাগ খুব দেখে যায় বোঝা,
তার সাথে পেরে ওঠা মোটে নয় সোজা।
ভালুক লোমশ দেহে খায় ঘুরপাক,
চায় না দেখতে তাকে মানুষ তাকাক।
কুমির ভাসছে জলে বিশাল শরীর,
মড়ার মতোই সে হয়ে আছে স্থির।
হাতি খোশ মেজাজেই দোলাচ্ছে শুঁড়,
তাদের ঠিকানা খুঁজে যাই আলিপুর।
জল-হস্তীর কথা বলি এইবার,
সেই যে ডুবেছে জলে, ওঠে কই আর!
জিরাফ, ক্যাঙ্গারু, গাধা আর নীলগাই,
কাছাকাছি পাশাপাশি আছে সব্বাই।
কত পাখি, প্রজাপতি, কাটা কচ্ছপ,
ত্যাঁদোড়, ভোঁদড়সহ আরও পাবে সব।
নানান হরিণ আছে যার যার মতো,
কাছিম মানুষ দেখে ভয়ে থতমত।
বনবিড়ালের দেখা এখানেই পাবে,
তবে কি এবার সব আলিপুর যাবে?
