রূপপুর গ্রামের এক প্রান্তে ছিল একটি পুরোনো স্কুল। দিনের বেলা সেখানে শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর থাকলেও, রাত নামলেই স্কুলটি একেবারে নীরব হয়ে যেত। গ্রামের লোকজন বলত, পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলো পড়লে সেই স্কুলে নাকি অন্যরকম ক্লাস বসে।
এক পূর্ণিমার রাতে কৌতূহলী ছেলে অর্ণব স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে দেখল, বন্ধ স্কুলঘরের জানালা দিয়ে নরম সাদা আলো বের হচ্ছে। ভেতর থেকে ভেসে আসছে—“স্যার, আমি উত্তরটা বলতে পারি?”
অর্ণব সাহস করে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকাল।
সে অবাক হয়ে দেখল, ছোট ছোট স্বচ্ছ ভূত বেঞ্চে বসে পড়ছে। সামনে এক বৃদ্ধ ভূত-শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে লিখছেন, “ভালো মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।”
একটি ভূত অর্ণবকে দেখে মুচকি হেসে বলল,
— ভয় পেও না। আমরা কাউকে ভয় দেখাই না। আমরা শুধু সেই পড়াগুলো শিখি, যেগুলো পৃথিবীতে শেষ করতে পারিনি।
ভূত-শিক্ষক বললেন,
— মনে রেখো, জ্ঞান কখনও নষ্ট হয় না। যে শেখে, সে-ই আলো ছড়ায়।
ঠিক তখনই মেঘ এসে চাঁদটাকে ঢেকে দিল। মুহূর্তের মধ্যে আলো মিলিয়ে গেল। অর্ণব আবার জানালার দিকে তাকিয়ে দেখল, ঘরটি একেবারে ফাঁকা।
পরদিন সকালে সে স্কুলে গিয়ে সেই ঘরের ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে লেখা একটি বাক্য দেখতে পেল—
“শেখা কখনও থেমে থাকে না।”
অর্ণব সেদিন থেকে আরও মন দিয়ে পড়াশোনা করতে লাগল। আর পূর্ণিমার রাতে আকাশের চাঁদ দেখলেই তার মনে পড়ে যেত—চাঁদের আলোয় কোথাও না কোথাও হয়তো আবার বসেছে সেই রহস্যময় ভূতের স্কুল।
