ঝন্টু, পাপিয়া এবং রিন্টু—পাড়ায় তিন বন্ধু। ওরা একই স্কুলে ক্লাস টেনে পড়ে। ছোট থেকে একসাথে খেলাধুলো, পড়াশোনা এবং নানা কর্মসূচি পালন করে। এটা ছিল আগস্ট মাস, দেশের স্বাধীনতা দিবস আসন্ন। প্রতি বছর তিন বন্ধু স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কিছু সামাজিক কর্মসূচি পালন করে থাকে। এই বছরও একটি নতুন কর্মসূচি নিয়ে প্ল্যানিং চলছে।

আগের বছর স্বাধীনতা দিবসে ওরা পাড়ায় ‘বৃক্ষ রোপণ’ কর্মসূচি পালন করেছিল। এই বছর ঠিক করেছে—পাড়ার সব বিড়াল-কুকুরকে খাদ্য দান করবে স্বাধীনতা দিবসে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” তাই কোনো জীবের নিঃস্বার্থ সেবা করলেই ঈশ্বর সেবা করা হয়।

তাই প্ল্যানমতো সবাই পাড়ার বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিছু চাঁদা তুলে একজন রাঁধুনি ঠিক করল, স্বাধীনতা দিবসে রান্না করে দেওয়ার জন্য। সময়মতো তিনজন বাজার করা সেরে ফেলল। কিছু টাকা তারা নিজেদের পকেট থেকেও খরচ করেছে। চাল, ডাল কেনা হল, মাছ কিনবে স্বাধীনতা দিবসের সকালে। নিজেদের জন্যও খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করল সেদিন।

স্বাধীনতা দিবসের দিন সবাই ভোরবেলায় স্কুলে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফিরল। তারপর বাজার করে আনল এবং রাঁধুনিকে দুপুরের রান্না করতে ডেকে আনল। দুপুরে রান্না কমপ্লিট হতেই তিনজন বেরিয়ে পড়ল পাড়ার সব কুকুর এবং বিড়ালগুলোকে আহার করানোর জন্য।

যেখানেই বিড়াল, কুকুর দেখতে পেল, প্লেটে করে তাদের সামনে খাবার দিতে লাগল। তবে এই আয়োজনে আশেপাশের পাড়া থেকেও অনেক কুকুর ও বিড়াল ছুটে এল। তাই তাদের এই আয়োজন একটা বৃহত্তর আয়োজনে পরিণত হল।

এরপর তারা নিজেরাও খিচুড়ি আহার করল। পাড়ার আরও কিছু বাচ্চা তাদের সাথে উৎসাহ নিয়ে যোগদান করল। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে তারা এমনই কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়ে চলতে চায়—এটাই ছিল তিন বন্ধুর অঙ্গীকার। যতদিন তারা এই পাড়ায় থাকবে, নানা সামাজিক কর্মসূচি পালন করে যাবে।